দাও ফিরে সে অরণ্য | Trip to Lulung

এই নিবন্ধে আমরা লুলুং,বারিপাদা, বাংরিপোশি,হাতিবাড়ি, ভিতরকণিকা ভ্রমণ (Trip to Lulung) নিয়ে আলোচনা করব।

ভ্রমণ মানচিত্রে ওডিশার প্রশস্তি তার মন্দির ও সাগরবেলার জন্য। তবে ওডিশার অন্যতম সম্পদ তার অরণ্য আজও অধরা থেকে অনাস্বাদিত ভার্জিন শিরোপায় প্রকৃতির রূপ-রসে মদির। স্বচ্ছন্দে চলাও যেতে পারে যে-কোনও উইক এন্ডে পল্যুটেড শহর ছেড়ে আদিবাসী তথা উপজাতিদের এই সব আরণ্যক পাহাড়ভূমে।

লুলুং (Lulung) :

Lulung
Beauty of lulung… Similipal… Incredible Odisha!!!

যাওয়া : কলকাতা থেকে ধৌলী এক্স ৬-০০, ফলকনুমা এক্স ৭-২৫, ইস্ট কোস্ট ১১-৪৫-এ হাওড়া ছেড়ে খড়্গাপুর হয়ে ২৩২ কিমি দূরের বালাসোরে পৌঁছান ৯-২৬/১০-৩৫/১৫-৪৫এ। পুরী এক্স, শ্রীজগন্নাথ এক্সও যাচ্ছে হাওড়া থেকে বালাসোর হয়ে। রেল স্টেশন থেকে ১ কিমি দূরের বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে বাসে ৫৫ কিমি দূরের। বারিপাদা পৌঁছান ২ ঘণ্টায়। আর কলকাতার বাবুঘাট ও শহীদ মিনার থেকে সরাসরি ১০টি বাসও যাচ্ছে ঘণ্টা ছয়েকে NH 5-এ ২৫৩ কিমি দূরের বারিপাদায়। তেমনই বালাসোরের ১৮ কিমি আগে রূপসা জং-এ নেমেও ৬-৩৫, ১০-৩৬ বা ১৫-৪৪এ রূপসা- বারিপাদা/ বাংরিপোশি প্যাসেঞ্জারে ২ ঘণ্টায় চলা যেতে পারে ৫২ কিমি দূরের বারিপাদায়। ভুবনেশ্বর থেকেও এক্স (১৭- ১০) মেলে বারিপাদা। আবার শালিমার থেকে সরাসরি যাত্রায় 123 দিন ১৮-৩৫এ শালিমার ছেড়ে ২৩-৫০এ বারিপাদা যাচ্ছে 18007 সিমিলিপাল এক্স। জেলাসদর বারিপাদা থেকে ৩৮ কিমি দূরে অরণ্য অন্দরে লুলুং। সার্ভিস বাসের অভাব। নিজস্ব গাড়ির অভাবে শ’আষ্টেক টাকায় জিপ- অ্যাম্বাসাডর/ শ’তিনেক টাকায় অটো মেলে বারিপাদা থেকে লুলুং যাত্রায়। বর্তমানে লুলুং-এ রাত্রি যাপনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জঙ্গলের অপরূপ রূপের জন্য বারিপাদা থেকে অবশ্যই লুলুং ঘুরে নেওয়া উচিত হবে। অরণ্য প্রবেশের অনুমতি মেলে প্রবেশ ফটকে।

থাকা : ৩০০ মি উঁচু লুলুং-এ OTDC-র ১০ ঘরের Lalung Aranyanivas-টি বর্তমানে বন্ধ । তবে বারিপাদা থেকে অরণ্য শোভার আস্বাদ নিতে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে দেওয়া যায় লুলুং- এ। সর্বশেষ তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন: Tourist Officer, Baripada 757001, (06792252710. বা OTDC 55 Lenin Sarani, Kol-13 0 22654556. বিজলী বাতি জ্বলছে সোলার এনার্জিতে বাংলোয়। নিচু দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ি নদী পল পলা।

সিমিলিপাল টাইগার প্রোজেক্টের অংশ লুলুং। বৈচিত্র্যের অভাব ঘটলেও সবুজে ছাওয়া পাহাড় ঢালে আরণ্যক শোভার জন্য লুলুং-এর প্রশস্তি। ৭ কিমি সিমিলিপাল অন্দরে শাল মহুয়া- দেবদারুতে ছাওয়া—পাহাড়-পাহাড় লুলুং। ছোট্ট অবকাশ যাপনের মনোরম পরিবেশ। ৩ কিমি দূরে কালীপাহাড়, শ্বেত-শুভ্র ঝরনা নামছে পাহাড় থেকে ঝরনার জলে সৃষ্ট সীতাকুণ্ড – সেও রমণীয়। সিমিলিপাল জাতীয় উদ্যানও বেড়িয়ে নেওয়া যায় লুলুং থেকে।

বারিপাদা [Baripada]

সিমিলিপালের অন্যতম গেটওয়ে ময়ূরভঞ্জ জেলার সদর বারিপাদা। ফরেস্ট রেস্ট হাউসের বুকিংও কেন্দ্রীভূত হয়েছে বারিপাদায়। জিপও মেলে ভাড়ায়। পথও যাচ্ছে বারিপাদা থেকে সিমিলিপাল। দিনভর প্যাকেজে ৩০০০/৩৫০ টাকায় বারিপাদা-সিমিলিপাল-বরিশাল বি নেওয়া যায় দিনে-দিনে। তেমনই, বারিপাদার আর এক আকর্ষণ চৈত্র সংক্রান্তিতে ৩ দিন ব্যাপী বর্ণাঢা ছৌ নাচের আসর। বারিপাদার রথও উল্লেখ্য, আকারে ছোট হলেও মাহাত্ম্যে পুরীর পরেই এর স্থান। আর আছে বাস স্ট্যান্ডের সন্নিকটে শ্বেত-শুভ্র জগন্নাথ মন্দির, ভঞ্জ রাজাদের প্রাসাদবাড়ি বারিপাদায়। ১৬ কিমি দূরে ময়ূরভঞ্জ রাজাদের রাজধানী হরিপুর দেখে নেওয়া যায়। জেলা জুড়ে সাঁওতালিদের বাস।

থাকা-খাওয়া : থাকারও নানান ব্যবস্থা। Baripada-757001, STD 067924H Bishum O 253535, DAB ২০০-১০০০, পাশেই H Ambika, 2-253557, DAB 825 850 MED ১০০০; ১ কিমি দূরে জগন্নাথ মন্দিরের কাছে H Durga, D 253438, DAB 300-400, ANc D ১৯০-১৩০০, KB : 22642051 H Siddhartha 252818, D 350 H Shibapriya, Traffic Sqr, DAB ৩০০ A/C D ৭৫০-৮৫০ ছাড়াও নানান। NHS-এ Muraghadi-তে OTDC-র Panthanivas A/C D 1500 KB 22654556/22259639 রয়েছে। আহার্যে বিশ্রাম লাগোয়া গ্র্যান্ড হোটেলটি ভালই। ভেজ, নন ভেজ ও চীনা ডিশ মেলে হোটেল দুর্গা ও অম্বিকায়।

বাংরিপোশি [ Bangriposi Odisha ]

যাওয়া : বারিপাদা থেকে ৬১, যোশীপুর ৬০ আর কলকাতার ২৩০ কিমি দূরে NH-6-এ শান্ত- স্নিগ্ধ পটে আঁকা ছবি বাংরিপোশি। বারিপাদা থেকে বাস যাচ্ছে। কলকাতা থেকেও সরাসরি বাস মেলে বাংরিপোশির। ORT-র বারবিল ও করঞ্জিয়া ছাড়াও নানান প্রাইভেট বাসে ঘণ্টা ছয়েকের পথ। ট্রেনযাত্রীদের লুলুং-এর যে কোনও ট্রেনে বালাসোর পৌঁছে বাসে বাংরিপোশি। ভুবনেশ্বর থেকে ১৭-১০এ ছেড়ে ২১-৫৮য় বালাসোর হয়ে ২২-৫০এ বাংরিপোশি যাচ্ছে 12892 বাংরিপোশি এক্স।

থাকা-খাওয়া : থাকার নানান ব্যবস্থা বাংরিপোশিতে। প্রাইভেট মালিকানায় OTDC-র ১২ ঘরের পান্থশালা, ॐ (06791) 223292, D 1000 1200 A/C ১৫০০ ২০০০, অবু: Tourist Baripada, D (06792) 252710 / কলকাতা 22493653; FIB, NH IB ছাড়াও প্রাইভেট হোটেল সিমলিপাল রিসর্ট, 09437612747, DAB 600 KB 32953360 মুখার্জি হোটেল DAB -৪০ বাংরিপোশিতে।

নদী, পাহাড় আর গহন অরণ্যের সমন্বয়ে গড়া রূপসী বাংরিপোশির আকর্ষণ অনবদ্য। গাছগাছালিতে ছাওয়া সুন্দর প্রকৃতির মাঝে রূপ-রস-বাসের আশ্চর্য সমীকরণ বাংরিপোশি। চারপাশ ঘিরে সিমিলিপাল পাহাড়শ্রেণী। বিদ্যাভাণ্ডার, পাথরকুসি, অর্ধেশ্বর, বুড়াবুড়ি ছাড়াও নানান পাহাড়ছুড়ো প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে। লোধা, সাঁওতাল, ভীল, মুণ্ডা আদিবাসীদের বাস বুক চিরে বয়ে চলেছে বুড়িবালাম নদী। তারই মাঝে কান জুড়ানো পাখির কুজন, আদিবাসী রমণীর লাজুক হাসি; ধামসা-মাদলের দ্রিম দ্রিম বোল। ২ কিমি দূরে ঠাকুরানী হিলস, ৮ কিমি দূরে বারসোই, ১৩ কিমি দূরে কানচিণ্ডার মোহিনী রূপও দেখে নেওয়া যায়। ৪ কিমি দূরে জাতীয় সড়কও পাহাড় চড়েছে। বাসও চলে সর্পিল গতিতে ঘাট রোডে। পাহাড় চড়তেই কনক (বন) দুর্গা অর্থাৎ দেবী বাংরিপোশির থান। হাতির পিঠে উপবিষ্টা দেবী খুবই জাগ্রতা। চলার পথে যান- চালকেরা আশিস মাগেন দেবীর। প্রচলিত বিশ্বাস, তাচ্ছিল্যে যন্ত্র বিকল হয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়ে যন্ত্রশকট। দেবীর পূজা দিতে সচল হয়ে চলতে শুরু করে নতুন করে আবার। যে-কোনও উইক এন্ডে বাংরিপোশির রূপ-রস-মধু উপভোগে চলা যেতে পারে। সিমিলিপাল জাতীয় উদ্যানও বেড়িয়ে নেওয়া যায় দিনভর প্রোগ্রামে বাংরিপোশি থেকে তালবান্দা হয়ে।

হাতিবাড়ি [Hatibari]

Hatibari-Info.

বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওডিশা সীমান্ত জুড়ে সুন্দর প্রকৃতির বুকে অনবদ্য হাতিবাড়ি। পাহাড় পাহাড় আরণ্যক পরিবেশ, নিচু দিয়ে বয়ে চলেছে সুবর্ণরেখা নদী। জেলে নৌকায় নৌকাবিহারও করা যায় সুবর্ণরেখায়। শাল, পিয়াল, সেগুন, ইউক্যালিপটাস, আকাশমণিতে ছাওয়া রূপসী হাতিবাড়ি। চেনা-অচেনা নানান পাখ-পাখালির কলকাকলি মধুময় করে তোলে পরিবেশ। বাসও যাচ্ছে NH 6 ধরে ঝাড়গ্রাম হয়ে কলকাতা থেকে ঘণ্টা আটেকে হাতিবাড়ি অর্থাৎ জামসোলা পেরিয়ে ওডিশা রাজ্যের নানানদিকে। কলকাতা থেকে দূরত্ব NH 6-এ খড়্গপুর ১৩২, লোধাশুলি ১৬৬, চিচিড়া ১৮৪, জামসোলা ২০৭ কিমি। বাংলা-ঝাড়খণ্ডের চেকপোস্ট চিচিড়া হলেও ঝাড়খণ্ড-ওডিশার চেকপোস্ট জামসোলা-র রমরমা অধিক। NH 6-এ জামসোলা রেখে ১ কিমি যেতে হাতিবাড়ি। বাঁয়ে মোরাম বিছানো পথে ৩ কিমি গিয়ে মনোরম পরিবেশে হাতিবাড়ি ফরেস্ট রেস্ট হাউস, D ৫০০, অবু : DFO, Midnapur – West, Jhargram, (03221) 255010.

ভিতরকণিকা [ Bhitarkanika ]

যাওয়া-আসা : হাওড়া-খড়গপুর-বালাসোর হয়ে রেল যাচ্ছে ২৯৭ কিমি দুরের ভদ্রক। ৬-০০ টায় ধৌলী এক্স, ১১-৪৫-এ ইস্ট কোস্ট এক্স হাওড়া ছেড়ে ভদ্রক যাচ্ছে ১০-৩০/ ১৭-১৩-এ। ফেরার পথে ১৫-৩০এ ধোলী, ১০-৪০এ ইস্ট কোস্ট, ৮-১৪-য় জন শতাব্দী এক্স ভদ্রক ছেড়ে হাওড়ায় আসছে ২০-১৫/১৬-১৫/১২-৪০-এ। আর খড়্গাপুর থেকে ৪-৪০ (রবি ছাড়া), ৩৫, ১৫-৫৫, ১৮-১৫, ৩-২৫এ লোকাল ট্রেন ভদ্ৰক যাচ্ছে। ভদ্রক-খড়্গাপুর লোকাল ফেরে ৪ ৩৫, ৬-৪৫, ১৬-০০, ১৭-০৫, ২০-১৫এ ভদ্রক ছেড়ে ৬ ঘণ্টায় খড়্গাপুরে। খড়্গাপুর থেকে এনু লোকালে কলকাতা। বাসও যাচ্ছে নানান কলকাতা থেকে ভদ্রক।

ভদ্রক রেল স্টেশন থেকে রিকশায় ১ কিমি দূরের বাস স্ট্যান্ড পৌঁছে বাসে বা ৩ কিমি দূরের বাইপাস ক্রসিং থেকে ট্রেকারে ঘণ্টা দুয়েকে ৫০ কিমি দূরের অতীতের বন্দরনগরী চাম্পাি পৌঁছান। বাস আসছে বালাসোর ১২০, কটক ১৬০, ভুবনেশ্বর ১৮৯ কিমি থেকেও চাঁদবালিতে। ৪২০ কিমি দূরের কলকাতা থেকেও বাস আসছে চাঁদবালির।

চাঁদবালিতে থাকার জন্য : চাঁদবালি বাস স্ট্যান্ডে প্রাইভেট মালিকানায় — Swagat. O 220225, DAB ৪৫; Puspak L D ২৫০ ছাড়াও Suraj GH. 09439843480 D ৫০০ ৭৫০ F ৮৫০ আছে। আহারও মেলে হোটেলে। আর হয়েছে Orissa Tourism- Nivas, (06786) 220397, D 400 A/c 38000, KB: @ 22654556.

আর অসময়ের যাত্রীদের জন্য ভদ্রক রেল স্টেশন লাগোয়া H Abhinandan, D (06784) 230509, D 00-200; Shantiniketan L, Rajesh L, Adarsha L, Saroj L, H Blue View ১ কিমি দূরে Bye Pass – Hotel Gautam, Motel Tarinee International ছাড়াও সাধারণ লজ রয়েছে নানান ।

চাঁদবালি থেকে ১৪-০০টায় একমাত্র যাত্রী লঞ্চে ৩০ টাকায় ২ ঘণ্টায় ২০ কিমি দূরের নলতাপাটিয়া ঘাট পৌঁছে ভ্যান রিকশায় ৪ কিমি দূরের কণিকা রেঞ্জের ডাংমল।

ডাংমলে থাকার জন্য : ৪ ঘরের Dangmal FRH-এ D 950 F ১৪০০ ব্যাম্বুহাট ২০০০৬ বেডের ডর্মি ১৬০০ অবু Latatendu Sooain @ 08018760705 DFO, Mangrove Division Warden, Rajnagar, Kendrapara, PC-754225, (06729) 222464/ Resi : (D) 272464, রয়েছে। চলার পথে Range Officer, Chandbali-756133, থেকেও বুকিং- এ সহযোগিতা মেলে। বনের পারমিটও মেলে রেঞ্জ অফিস থেকে। বা ১২ কি.মি দূরে ২ ঘরের পঞ্চায়েত রেস্ট হাউস D 400 450-এও চলা যেতে পারে।

সোলার এনার্জিতে আলো জ্বলছে ডাংমলে। আর খোলা চেক পোস্টে থাকার জন্য সম্প্রতি Sand Pebbles Jungle Resort D 09937047574. APD 4650 T 6350 F 8050 গড়ে উঠেছে ।

প্যাকেজ ট্যুর : বনদপ্তরের ১৬ যাত্রীর বোটে ঘণ্টাপ্রতি ৬৫০/৫৫০ টাকায় সাঙ্গ করা যায় চাঁদবালি-ডাংমল-ভিতরকণিকা-চাঁদবালি সফর। প্যাকেজেও যাচ্ছে ১৯০ টাকায় প্রতিজনা। বেসরকারি নানান সংস্থাও চলেছে চাঁদবালি থেকে ভিতরকণিকা ভ্রমণে।

অতীতের শবরদের রাজ্য কণিকা আজ হয়েছে ভিতরকণিকা। অভয়ারণ্যের গেটওয়ে ভিতরকণিকা। বৈতরণী ও ব্রাহ্মণী নদীর সঙ্গমে ১৭০ বর্গ কিমি জুড়ে সুন্দরী, হেঁতাল, বাইন, গেঁদ, গরান, কেওড়া, গেঁয়ো-য় ছাওয়া ভিতরকণিকা ম্যানগ্রোভ অরণ্য। সারা পৃথিবীর মোট ৭২ প্রজাতির ম্যানগ্রোভের মধ্যে ৬৩ প্রজাতির সন্ধান মেলে ভিতরকণিকায়। তবে, ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় উদ্যানের ভূষণ চেপেছে ৬৫০ বর্গ কিমি ব্যাপ্ত হলুদ নদী সবুজ বনের ভিতরকণিকার শিরে। সুন্দরবন আকারে বৃহত্তম, জীববৈচিত্র্যে অনন্য হলেও গাছ-গাছালি, পাখ-পাখালি, বন্যজন্তুর রকমভেদে ভিতরকণিকা অন্যতম। ব্রাহ্মণীর পারাপারে কণিকা রেঞ্জ। ডামেল ফরেস্ট রেস্ট হাউসের জেটি থেকে ডিঙি নৌকায় ব্রাহ্মণী পেরিয়ে ভিতরকণিকার বৃক্ষশাখে চেনা-অচেনা হাজারো পাখির (১৭০ ধর্মী) বর্ণালী – মৌটুসি, শামুকখোল, ফটিক জল, সাদা কাক, সোনা জঙ্ঘা, সাদা কাস্তেচোরা, খয়েরি রঙা মাছরাঙা, ব্রাহ্মণী হাঁস, হাড়গিলে, পেন্টেড স্টক, লার্জ ইগ্রেটস পরিবেশকে বর্ণময় করে তোলে। আর জলে কুমির ও কচ্ছপ শত-সহস্র। সাপের রকমভেদও উল্লেখা। হরিণ, বন্য শুয়োর, বন্য চিতা, বন্য বিড়ালও অজস্র ভিতরকণিকার ম্যানগ্রোভ অরণ্যে। এমনকি হরিণেরা আসে রাতে বাংলোর চারপাশে। শীতে আসে দেশ-দেশান্তর থেকে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী পাখি—ওপেন বিল্‌ড্ স্টকস, ইপ্লেটস, ফ্লেমিংগো, হেরন, হোয়াইট আইবিস, পেলিক্যান, স্নেকবার্ড, স্যান্ড পাইপার ছাড়াও নানানধর্মী ডেরা বাঁধে ভিতরকণিকার বৃক্ষ শাখে। বাংলো লাগোয়া ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম কুমির প্রকল্পটিও আর এক দ্রষ্টব্য। বউলা প্রজাতির সঙ্গে বিরল প্রজাতির সাদা কুমির (অ্যালবিনো)ও আছে এখানে। আর আসে ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাসে সুদূর দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ভারত মহাসাগর পেরিয়ে বিপুলাকার সামুদ্রিক কাছিম অলিভ রিডলে টার্টল, হক বিলড টার্টল, লেদার-ব্যাকড টার্টল ডাল-এর ৩০ কিমি জল দূরত্বে উপকূলবর্তী গহিরমাথা দ্বীপের একাকুলা-য় ডিম পাড়ে শত-সহস্র। নির্মল সোনালি তটের সবুজ দ্বীপ একাকুলায় ব্রাহ্মণী নদী দু’ভাগে টুকরো হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলেছে—উত্তরে ধামারা নদী আর দক্ষিণে একাকুলা। এক পক্ষকাল থাকে এরা। পূর্ণিমা রাতে সংখ্যাধিক্য ঘটে। সাগরের ঠিক আগে ব্রাহ্মণীর সঙ্গমে বালুচরে বাসা গড়ে ডিম পাড়ে। বনদপ্তরের যান্ত্রিক জলযানে ঘণ্টাচারেকে চলা যেতে পারে। দিনভর প্রোগ্রামেও দেখে ফেরা যায় গহিরমাথা। নিরালা-নির্জন-শাস্ত ভার্জিন সাগরবেলা গহিরমাথা-বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে নির্জনতা ভেঙে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রাকৃতিক কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র গহিরমাথার আকাশ ছেয়ে ঘন সবুজ ঝাউবীথিকা। বিদায়ী সূর্যের রক্তিম আভায় আগুন লাগে বঙ্গোপসাগরের জলে। সূর্যাস্তেও রঙের বর্ণালী মন্ত্রমুগ্ধ করে গহিরমাথায়। ধামারা নদী তীরে দু’পাশ জুড়ে সুন্দরী গরান-হেঁতাল হোগলার সবুজ অভয়ারণ্য কালীভঞ্জন। থাকারও ব্যবস্থা মেলে গহিরমাথায় ২ ঘরের Ekakula FRH-এ ।

Leave a Comment